নিজস্ব প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক উত্তাপ এখন তুঙ্গে। বিশেষ করে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সাম্প্রতিক বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ১৯০০ সালের ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০২৬ সালের ডিজিটাল প্রচারণার যুগেও বাংলাদেশের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে ফিরে এসেছে দেশপ্রেম ও আদর্শিক সততার প্রশ্ন।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি, ২০২৬) দুপুরে ঠাকুরগাঁওয়ের গড়েয়া বাজারে এক নির্বাচনি পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জামায়াতে ইসলামীর অতীত ইতিহাস নিয়ে এক চাঞ্চল্যকর দাবি করেন। তিনি বলেন, “জামায়াতে ইসলামী শুধু ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরোধিতা করেনি, ইতিহাস বলছে তারা ১৯৪৭ সালে পাকিস্তানের সৃষ্টিরও বিরোধিতা করেছিল। তারা পাকিস্তানও চায়নি, বাংলাদেশও চায়নি।”
মির্জা ফখরুল আরও বলেন, “বইপত্রে এর সুস্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে যে, জামায়াত কোনো রাষ্ট্র সৃষ্টিতেই বিশ্বাস করেনি। যারা এ দেশের অস্তিত্বকেই একসময় স্বীকার করেনি, তারা কীভাবে এই দেশকে ভবিষ্যতে নিরাপদ রাখবে? যে দল অতীতে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে এবং এখনো সেই ভূমিকার জন্য ক্ষমা চায়নি, তাদের সমর্থন করা যায় না।”
স্থানীয়দের উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন দাবির জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “কোনো এলাকা তখনই উন্নত হয়, যখন সেখান থেকে সৎ ও দেশপ্রেমিক নেতৃত্ব তৈরি হয়। আমরা ক্ষমতায় গেলে ঠাকুরগাঁওয়ে কৃষিভিত্তিক শিল্পকারখানা ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করব।” এ সময় তিনি ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলেন, যারা বাংলাদেশের ক্ষতি করেছে, তাদের কখনো ভোট দেওয়া উচিত নয়।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক মানচিত্র পরিবর্তনের প্রতিটি বাঁকে আজকের এই পরিস্থিতির শেকড় প্রোথিত:
১৯০০ - ১৯৪৭: বিংশ শতাব্দীর শুরুতে এই অঞ্চলে মুসলিম মধ্যবিত্তের বিকাশ ঘটে। ১৯০৬ সালে মুসলিম লীগের জন্ম এবং ১৯৪০-এর লাহোর প্রস্তাবের মাধ্যমে পাকিস্তানের স্বপ্ন দানা বাঁধে। তবে মির্জা ফখরুলের দাবি অনুযায়ী, জামায়াত প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা মওদুদী তখন পাকিস্তান সৃষ্টির তাত্ত্বিক বিরোধিতা করেছিলেন।
১৯৭১ - ২০২৪: ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতের বিতর্কিত ভূমিকা এবং পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর দেশের রাজনীতিতে আমূল পরিবর্তন আসে। ২০২৪-২৫ সাল ছিল রাষ্ট্র সংস্কার ও জবাবদিহিতার বছর।
২০২৬-এর নির্বাচন: ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচনকে ঘিরে এখন বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে এক ধরনের আদর্শিক সংঘাত দৃশ্যমান হচ্ছে। মির্জা ফখরুলের এই বক্তব্য সেই স্নায়ুযুদ্ধেরই অংশ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বিশ্লেষণ: রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালের নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াত একে অপরের ভোটব্যাংকে ভাগ বসাতে চাইছে। মির্জা ফখরুল জামায়াতের ১৯৪৭ ও ১৯৭১-এর ভূমিকা সামনে এনে মূলত ভোটারদের দেশপ্রেমের আবেগকে স্পর্শ করতে চেয়েছেন। ১৯০০ সালের সেই আদি চেতনার পর ২০২৬ সালে এসেও ‘জাতীয় নিরাপত্তা ও আদর্শ’ নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার প্রধান হাতিয়ার হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সূত্র: * নিজস্ব প্রতিবেদক ও ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি (২৯ জানুয়ারি, ২০২৬)
দৈনিক ইত্তেফাক ও বিএসএস (বাসস) নিউজ আর্কাইভ
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ বিষয়ক তথ্যভাণ্ডার
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |